ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুক-গুগলকে না দিতে প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান
ব্রডব্যান্ডের নূন্যতম গতি হবে ২০এমবিপিএস এআই ভিডিওতে লেবেল বাধ্যতামূলক হবে ৫ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ২ স্যাটেলাইট
‘ডিজিটাল উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্যে এবার পরিবেশ বান্ধব অনুষঙ্গ এবং নিজেদের এআই জাদু দেখিয়ে জাতীয় ভাবে উদ্যাপিত হলো বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৪। দিবসটি উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় বিশেষ ক্রোড় পত্র।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিদ দিবসটির মূল অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় বাংলাদেশের ৫ সদস্যের এআই প্রকৌশলীদের মেশিন লার্নিং টুল ব্যবহার করে তৈরি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ডিজিটাল টুইন। এতে মূলপ্রবন্ধ পেশ করে ইইডিজিই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার প্রকৌশলী আব্দুল বারী। উপস্থাপনায় তিনি ২০৩০ সাল নাগাদ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সুবিধার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশেজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৯৬০০ ডিজিটাল সেন্টার থেকে প্রতিমাসে এক কোটি মানুষ ডিজিটাল নাগরিক সেবা পাচ্ছে। ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ১৩ কোটি ব্যবহারকারী এখন প্রায় ৬ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের জল-স্থল ও অন্তরীক্ষে সর্বত্র টেলিযোগাযোগ সেবা বিরাজমান। এখন এআই পাওয়ার্ড পার্সোনালাইজড গভর্নমেন্ট ব্রেইন সার্ভিস দেয়ার জন্য জেনারেটিভ ও প্রেডিকটিভ নিয়ে কাজ চলছে। তখন ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপের সেবাগুলো জেনারেটিভ এআই-এ রূপান্তরিত হবে। টেশিসসহ দেশীয় সম্পদকে একত্রিত করে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম আমিরুল ইসলাম এবং তথ্য ও যেগাযোগ প্রযুক্তি সচিব সামসুল আরেফিন।
দিবস উপলক্ষে স্বাগত বক্তব্যের পরও ভিডিও বার্তায় আইটিইউ মহাসচিব ডোরেন বোগদান-মার্টিন বলেছেন, যে কেউ উদ্ভাবন শুরু করতে পারেন। ডিজিটাল মাধ্যম আমাদের আইডিয়াকেই সংযুক্ত করে কেবল ক্ষমতায়িতই করে না, এটা একে অন্যের মধ্যে বন্ধনও গড়ে তোলে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের সকল স্কুলকে সংযুক্ত করে। এর মাধ্যমেই আমরা ১৫৯তম বর্ষপূর্তীতে আজ ১৭ই মে অনলাইনে যুক্ত হতে পেরেছি। তাই আসুন উদ্ভাবনী শক্তিতে একসঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করি। সমৃদ্ধিকে সবার জন্য টেকসই করি।
অনুষ্ঠানে খুদে ডাক পিয়নদের মাধ্যমে দিবসটি উপলক্ষে প্রকাশিত উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর অবমুক্ত করেন ডাক, টেলিযোগাযো ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে দুই মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড ও বাংলালিংক এর নেটওয়ার্ক শেয়ারিং চুক্তির ঘোষণা করেন এবং দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল। এই দলের সদস্যরা হলেন- মো হাসান তারিক খান, মোঃ রেদোয়ান মেল্লা এবং মোতাসিম ফুয়াদ। রানার্স আপ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা হলেন- আবু বকর সায়েম, মোঃ শাহাদাত হোসেন এবং মাহমুদুল হাসান। রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন শফিকুল ইসলাম, দ্বিতীয় আদৃতা আফরিন এবং তৃতীয় হয়েছেন মোঃ শাহাদাত হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এআই এর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নতুন আইন হচ্ছে জানিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এআই ভিডিও-তে লেবেল যুক্ত করা না হলে তা হবে অপরাধ। একইসঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুক-গুগলকে না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রত্যেকর ব্যক্তিগত মোবাইলফোনে পাসওয়ার্ড কিংবা ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতমুখী প্রযুক্তিগুলো যেভাবে জীবনকে সহজ করছে একইভাবে আমাদের ব্যক্তি জীবন, পরিবার ও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ফেসবুক, গুগল ব্যাংক, দেশী-বিদেশী কোম্পানি যদি আপনার পছন্দ-অপছন্দ, ভালো লাগা, কষ্ট, দুঃখ সব জেনে যায়; তাহলে তো তা আপনাকে আস্তে আস্তে প্রভাবিত করবে। এখন যেমন নেটফ্লিক্সে ১০০টি মুভি দেখলে পরে সে আপনার পছন্দ অনুযায়ী মুভি সাজেস্ট করছে। স্পটিফাইয়ে গান শুনলে সে একটির পর পরেরটি শুনতে বলবে। অবস্থাটা এমন যে, দুই দিন পর আপনাকে কাকে বিয়ে করতে হবে সেটাও তারা বলে দেবে। রোবট হয়ে যাবে খেলার সঙ্গী। তাই নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌত্ব সুরক্ষায় আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।
প্রতিরক্ষা খাতের নিরাপত্তার জন্য আগামী ৫ বছরের মধ্যে অপটিক্যাল রাডার সহ আর্থ অবজারভেটরি স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-২ উৎক্ষেপণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে পলক জানান, এ বছরেই নতুন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নীতিমালা পাশ করা হবে। সেখানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গতি নূন্যতম ২০ এমবিপিএস হবে।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংক সিইও এরিক অস, রবি’র করপেরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম, টেলিটক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান, বিটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন, আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।





